Gupta Jug in Details for any Compititive Exam 2026 for Sure Success

গুপ্ত যুগ

গুপ্ত সাম্রাজ্য

GUPTA DYNASTY

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য  ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা RRB NTPC, SSC, UPSC এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারি পরীক্ষায় ভালো স্কোর করতে সহায়তা করে। আজকে ইতিহাসের একটি বিষয় গুপ্ত যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল যা পড়লে গুপ্ত যুগ থেকে আসা যেকোনো প্রশ্নের উত্তর করা যাবে । তোমরা বিষয় টি ভালো করে পড় ।আশা করি এই বিষয়টি পড়লে গুপ্ত যুগ সম্পর্কে তোমাদের একটি ভালো ধারনা হয়ে যাবে । এছাড়া আমাদের এখানে অন্যান্য বিষয়ের নোট্‌স দেওয়া আছে চাইলে দেখে নিতে পার ।

গুপ্ত যুগ: রাষ্ট্র, শাসনব্যবস্থা রাজনৈতিক বিস্তারের সহজ ব্যাখ্যা

ভারতের প্রাচীন ইতিহাসে “গুপ্ত যুগ” বা Golden Age of India এক উজ্জ্বল অধ্যায়। কুষাণ ও সাতবাহনদের পতনের পরে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের মাঝামাঝি যে নতুন সাম্রাজ্য উত্তর ভারতে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, সেটিই ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্য। রাজনৈতিক স্থিতি, সাংস্কৃতিক উন্নতি ও সামরিক সাফল্যের ভিত্তিতে এই যুগকে ভারতের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

গুপ্ত সাম্রাজ্যের উত্থান ভৌগোলিক বিস্তার

তৃতীয় শতকের শেষে কুষাণ সাম্রাজ্য যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন উত্তর ভারতের আর্যাবর্ত অঞ্চলে গুপ্তদের উত্থান ঘটে। গবেষকদের অনেকেই মনে করেন— গুপ্তরা বৈশ্য বর্ণের শাসক পরিবার ছিল। শুরুতে তাদের রাজত্ব মূলত বিহার উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ ছিল। প্রয়াগ (বর্তমান এলাহাবাদ) ছিল তাদের প্রথম দিকের রাজনৈতিক কেন্দ্র।

প্রথমদিকে তারা কুষাণদের কাছে কর দিত— পরে কুষাণদের শক্তি ক্ষীণ হওয়ায় গুপ্তরা বাধাহীনভাবে উত্তর ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল নিজেদের অধীনে আনে।

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত: গুপ্ত যুগের প্রতিষ্ঠাতা

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত প্রায় ২৭৫ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতায় আসেন। নিজের সাম্রাজ্য শক্তিশালী করতে তিনি নেপালের লিচ্ছবি রাজকন্যাকে বিয়ে করেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জোট হিসেবে কাজ করে।

৩১৯৩২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে “গুপ্ত যুগের” সূচনা করেন— পরবর্তী বহু শিলালিপিতে এই তারিখকে কালগণনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর রেখে যাওয়া শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো পরবর্তী বিস্তারের ভিত্তি তৈরি করে।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

সমুদ্রগুপ্ত: ভারতের নেপোলিয়ন     Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

গুপ্ত সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট নিঃসন্দেহে সমুদ্রগুপ্ত (৩৩৫–৩৮০ খ্রি.)। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে উল্লেখিত বিজিগীষু বা বেষ্টনকারী বিজয়ী রাজাদের মতোই তিনি ছিলেন এক অনন্য সামরিক নেতা।

এলাহাবাদ স্তম্ভলিপিসমুদ্রগুপ্তের জয়যাত্রার প্রামাণ্য দলিল

সম্রাট তাঁর বিজয় ও সামরিক অভিযানসমূহের বিবরণ প্রয়াগে একটি বিশাল পাথরের স্তম্ভে খোদাই করে রাখেন। এই শিলালিপি থেকেই তাঁর বিজয়যাত্রার প্রকৃত বিস্তার জানা যায়।

সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য বিস্তারের তিন ধাপ

. গঙ্গাযমুনা দ্বীপ অঞ্চল (Complete Annexation)

আশপাশের ছোট রাজ্যগুলো সম্পূর্ণ দখল করে

সরাসরি গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়

. পূর্ব উত্তরপূর্ব ভারতের দূরবর্তী রাজ্য (Subordinate Allies)

জয় করা হলেও সরাসরি সংযুক্ত করা হয়নি, বরং তারা গুপ্ত সম্রাটকে আধিপত্য স্বীকার করেছে। যেমন—

নেপাল

আসাম

বঙ্গদেশ

এগুলো স্বাধীনভাবে শাসিত হতে থাকে, কিন্তু কেন্দ্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখে।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

. অরণ্য জনপদ দক্ষিণভারতের রাজ্য (Indirect Control)

সমুদ্রগুপ্ত অরণ্যক অঞ্চলের আটবিক প্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য জয় করে পরে তাদের স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে দেন।
দক্ষিণে তাঁর বিজয় পৌঁছেছিল তামিলনাড়ুর কাঞ্চী পর্যন্ত, যেখানে পল্লব রাজারা তাঁর অধীনতা মেনে নেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কূটনীতি

সমুদ্রগুপ্ত শুধু ভারতের রাজাদের ওপরই নয়, বিদেশী শক্তির ওপরও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

আফগানিস্তানের শক ও কুষাণ রাজারা তাঁর কাছে আনুগত্য প্রকাশ করে

চীনা সূত্রে জানা যায়— শ্রীলঙ্কার রাজা মেঘবর্মা গয়ায় একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের অনুমতি সমুদ্রগুপ্তের কাছে চেয়েছিলেন

এ থেকে বোঝা যায়, তাঁর কূটনৈতিক মর্যাদা উপমহাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত ছিল।

সমুদ্রগুপ্ত: এক অজেয় সামরিক প্রতিভা

সমুদ্রগুপ্তকে প্রায়ই “ভারতের নেপোলিয়ন” বলা হয়। তিনি—

শতাধিক যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন

প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছেন

রাজনৈতিকভাবে দূরদৃষ্টি ও সামরিকভাবে অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam
Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য): শাসন, বিস্তার গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন

গুপ্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সমুদ্রগুপ্তের পরে সর্বাধিক প্রভাবশালী সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত। তাঁর শাসনকাল (৩৮০–৪১২ খ্রিস্টাব্দ) ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তি, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের স্বর্ণময় সময়।

বৈবাহিক জোট: যুদ্ধ ছাড়াই সাম্রাজ্য বিস্তার

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত সাম্রাজ্য সম্প্রসারণে যুদ্ধের পরিবর্তে বৈবাহিক জোটকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

  • মধ্যভারতের বাকাটক রাজবংশের সঙ্গে জোট

তিনি নিজের কন্যা প্রভাবতী গুপ্তকে বাকাটক রাজপুত্রের সঙ্গে বিবাহ দেন।
এর ফলে—

১. গুপ্তদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়

২. মধ্যভারতীয় বাকাটক অঞ্চলে গুপ্তদের প্রভাব সুদৃঢ় হয়

৩. প্রভাবতী রাজপুত্রের মৃত্যুর পর বাকাটক রাজ্যের মহিষী হিসেবে শাসনভার গ্রহণ করেন

৪. এই রাজনৈতিক জোট গুপ্তদের দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের উপর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে।

পশ্চিম ভারতে সামরিক সাফল্য

বাকাটক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের ফলে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত সহজেই শক ক্ষত্রপদের অধীন—

  • পশ্চিম মালব
  • গুজরাট

—এ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল জয় করতে সক্ষম হন।

  • উজ্জয়িনী গুজরাট দখলের গুরুত্ব

১. উজ্জয়িনী ছিল মালবের রাজধানী

২. গুজরাট দখল গুপ্তদের পশ্চিম সমুদ্রপথের বাণিজ্যের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়

৩. এতে বহির্বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়, সাম্রাজ্যের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়

৪. ঐশ্বর্যে বৃদ্ধি পাওয়ায় উজ্জয়িনী দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দ্বিতীয় রাজধানী হয়ে ওঠে

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

বিক্রমাদিত্য উপাধি গ্রহণ

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত নিজেকে বিক্রমাদিত্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
এ উপাধি উজ্জয়িনী অঞ্চলে অত্যন্ত সম্মানজনক ছিল— খ্রিস্টপূর্ব ৫৭ সালে এখানকার একজন খ্যাতিমান রাজাও এই উপাধি ধারণ করেছিলেন।

ফাহিয়েনের ভারত ভ্রমণ

চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু ফাহিয়েন (Fa-Hien) ৩৯৯–৪১৬ খ্রিস্টাব্দে ভারত ভ্রমণ করেন।
তিনি লিখেছেন—

১. চন্দ্রগুপ্ত দ্বিতীয়ের রাজত্ব স্থিতিশীল

২. আইনশৃঙ্খলা সুসংহত

৩. বাণিজ্য, শিক্ষা, ধর্মীয় জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ

এ কারণেই তাঁর শাসনযুগ গুপ্ত ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সভা: নবরত্নের উজ্জ্বল উপস্থিতি

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দরবার ছিল বিদ্বান, কবি ও পণ্ডিতদের সমাগমস্থল।

তাঁর সভায় উপস্থিত ছিলেন

কালিদাস — ভারতের শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি ও নাট্যকার

অমরসিংহ — অমরকোষ অভিধানের রচয়িতা

আরো বহু গুণী পণ্ডিত, যাদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় নবরত্ন

এই সময়ে সংস্কৃত সাহিত্য, দর্শন ও শিল্পকলার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে।

# গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন: প্রধান কারণসমূহ

পঞ্চম শতকের শেষভাগ থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের শক্তি দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। পতনের জন্য কয়েকটি বড় কারণ দায়ী:

. হুনদের আক্রমণ

উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ‘হুন’ নামে ভয়ঙ্কর যোদ্ধা জাতির পুনঃপুন আক্রমণে গুপ্ত সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।

. প্রাদেশিক রাজাদের স্বাধীনতা ঘোষণা

গুপ্তদের অধীন রাজ্যগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তিশালী করে স্বাতন্ত্র্য ঘোষণা করতে শুরু করে।

স্বাধীন হয়ে ওঠা প্রধান রাজ্য—

১. উত্তরপ্রদেশে থানেশ্বর রাজবংশ

২. বিহার–উত্তরপ্রদেশে মৌখরী রাজবংশ

৩. গুজরাট ও পশ্চিম মালবে বলভী রাজবংশ

ফলে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে।

. অর্থনৈতিক অবনতি

স্কন্দগুপ্তের রাজত্বের পর থেকে গুপ্ত মুদ্রার মান দ্রুত কমতে থাকে।
এতে সাম্রাজ্য—

রাজস্ব হারায়

সেনাবাহিনী দুর্বল হয়

বাণিজ্য কমে যায়

এই অর্থনৈতিক সংকট রাজনৈতিক শক্তির ওপর সরাসরি আঘাত হানে।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

গুপ্ত যুগের অর্থনীতি শাসনব্যবস্থা

গুপ্ত সাম্রাজ্য ভারতের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য স্বর্ণযুগ। এই সময়ের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিল্প, বাণিজ্য ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে আমরা জানতে পারি—

চিনা পর্যটক ফাহিয়েনের ভ্রমণবৃত্তান্ত,

শিলালিপি,

মুদ্রা,

ভাস্কর্য,

এবং সমসাময়িক সাহিত্যকর্ম থেকে।

গুপ্ত যুগের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সংগঠন ভারতীয় সভ্যতার পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করেছিল।

🟦 গুপ্ত যুগের অর্থনীতি

. কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল থেকে শক্তিশালীঅঞ্চলভেদে ভিন্নতা

গুপ্ত সাম্রাজ্যে রাজধানীর কাছাকাছি অঞ্চলে শাসন ছিল শক্তিশালী,
কিন্তু দূরবর্তী এলাকায় প্রশাসন অনেকটাই শিথিলভাবে চলত।
এজন্য স্থানীয় মোড়ল, প্রধান কিংবা পেশাভিত্তিক গোষ্ঠীর ক্ষমতা বাড়ত।

. রাজস্ব করব্যবস্থা

গুপ্ত যুগে কর আদায় ছিল বিধিবদ্ধ নির্দিষ্ট

কৃষিজ আয়ের / থেকে / অংশ রাজস্ব হিসেবে দিতে হত।

গরিবদের তুলনায় ধনীদের ওপর করের চাপ বেশি ছিল।

কৃষক, শিল্পী, ব্যবসায়ী— সবার ওপর নির্দিষ্ট কর প্রযোজ্য ছিল।

যেহেতু কৃষিই ছিল অর্থনীতির মূল ভিত্তি, তাই কৃষিজ কর রাজকোষের প্রধান উৎস।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

. সেনাবাহিনীর ব্যয় সামরিক পরিবর্তন

গুপ্ত সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল, এবং—

প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল ব্যয় করা হত

রথ ব্যবহারের প্রথা ক্রমে বন্ধ হয়ে অশ্বারোহী বাহিনী প্রধান হয়ে ওঠে

তীরন্দাজ ঘোড়সওয়ার যোদ্ধারা প্রধান ভূমিকা পালন করত

রাজার সেনাবাহিনী যেখান দিয়ে যাত্রা করত, সেখানকার সাধারণ মানুষকেই—

সৈন্যদের খাবার

ঘোড়ার খাদ্য

সেনাপতির বিশ্রাম ও আতিথ্য

ব্যবস্থা করতে হত।

 

. ‘বেগারবা বিনা পারিশ্রমিকে শ্রমদানের প্রথা

মধ্য ও পশ্চিম ভারতে চাষিদের ওপর বেগার বা বিষ্টি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।
তাদের করতে হত—

রাজসৈন্যদের দেখাশোনা

স্থানীয় কর্তা ও কর্মকর্তাদের সেবা

জমিদারের কাজে বিনা মজুরিতে শ্রমদান

এতে নিজেদের খেতের কাজ অনেক সময় পড়ে থাকত, ফলে কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ত।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam
Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

🟦 গুপ্ত যুগের শাসনব্যবস্থা

. নীতিশাস্ত্র, আইন দেওয়ানিফৌজদারি বিচার

গুপ্ত যুগে বহু নীতিশাস্ত্র ও আইনসংক্রান্ত গ্রন্থ রচিত ও সংকলিত হয়।
এ যুগেই প্রথম দেখা যায়—

দেওয়ানি আইন (Civil Law)

ফৌজদারি আইন (Criminal Law)

ফৌজদারি আইনে অন্তর্ভুক্ত ছিলঃ

চুরি

ব্যভিচার

দেওয়ানি আইনে অন্তর্ভুক্তঃ

সম্পত্তির স্বত্ব

জমি-বিবাদ

আর্থিক মামলা

তবে শাস্তি ছিল বর্ণভিত্তিক
একই অপরাধে নিম্নবর্ণের মানুষ কঠিন শাস্তি পেত, আর উচ্চবর্ণ comparatively হালকা শাস্তি।

. প্রশাসনের স্তরভাগ

গুপ্ত প্রশাসন ছিল ক্রমান্বয়ে বিভক্ত।

রাজ্যের মূল পরিচর্যাকারী কর্মকর্তা: কুমারমাত্য

প্রশাসনিক স্তর:

১. ভুক্তি — বৃহত্তম প্রশাসনিক অঞ্চল

    • শাসনভার: উপরিক

২. বিষয় — জেলার সমতুল্য

    • শাসনভার: বিষয়পতি

৩. বীথি — পূর্ব ভারতে বিষয়ের উপবিভাগ

৪. গ্রাম — নিম্নতম প্রশাসনিক একক

গ্রামের মোড়ল বা প্রধানের কর্তৃত্ব এই সময়ে খুব বেড়ে যায়।

. পেশাভিত্তিকপূগবাসমবায়’-এর ক্ষমতা

গুপ্ত যুগে পেশাভিত্তিক সংগঠন বা পূগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী।

তাদের অধিকার ছিল—

নিজেদের সদস্যদের বিবাদ নিষ্পত্তি

পেশার নিয়ম রক্ষা

শিল্প–কারিগরি উন্নয়ন

জমি হস্তান্তরে মতামত প্রদান

শিলালিপিতে উল্লেখ পাওয়া পূগ/সমবায়

শিল্পী

বণিক

কারিগর

লিপিকর

রেশম শিল্পীদের সমবায় (মান্দাসোরে উল্লেখ)

এই সমবায়গুলো অনেক সময় সরকারি নথিপত্র পর্যন্ত অনুমোদন করত।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

. করদ রাজ্য রাজনৈতিক সম্পর্ক

দূরবর্তী অঞ্চলের রাজারা—

গুপ্ত সম্রাটকে কুর্নিশ করত

নির্দিষ্ট রাজস্ব দিত

অনেক সময় নিজেদের কন্যা গুপ্ত রাজবংশে প্রদান করত

এর বিনিময়ে তারা নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে শাসন চালাত।

গুপ্ত বৈষ্ণব রাজারা করদ রাজ্যের জন্য যে সনদ দিতেন, তাতে গরুড় চিহ্ন থাকত।

. ভূমিদান ব্যবস্থা

গুপ্ত আমলে—

রাজকর্মচারীরা সাধারণত নগদ বেতন পেত

পুরোহিতদের দেওয়া হত ব্রাহ্মণত্র নামে নিষ্কর জমি

এই জমির ওপর—

কর সংগ্রহ

বিচার

শাস্তি দেওয়া

—সবকিছুই ব্রাহ্মণদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত।
ফলে ব্রাহ্মণের সম্পত্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

গুপ্তযুগের সমাজব্যবস্থা

গুপ্তযুগে ভারতীয় সমাজে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের ধারা দেখা যায়। এই সময়ের সমাজের রূপ আমরা প্রধানত জানতে পারি ফা-হিয়েনের বিবরণ, শিলালিপি, বিভিন্ন সাহিত্যকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে। সমগ্র সমাজের কাঠামো ছিল বর্ণভিত্তিক, তবে এর ভেতরে ছিল বহুমাত্রিক পরিবর্তন, নতুন জাতির সৃষ্টি এবং সামাজিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস।

বহিরাগতদের অন্তর্ভুক্তি নতুন জাতির সৃষ্টি

গুপ্তযুগে সমাজের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল—
বহিরাগত গোষ্ঠীগুলিকে ধীরে ধীরে ব্রাহ্মণ্য সমাজের অন্তর্ভুক্ত করা।

বিশেষ করে হূণ জাতির আক্রমণের পরে বিজয়ী হূণরা সমাজে ‘রাজপুতদের ছত্রিশ গোষ্ঠী’র একটি হিসাবে মর্যাদা পায়। আজও অনেক রাজপুত বংশ হূণ উপাধি বহন করে।

বিস্তৃত সাম্রাজ্যের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্রমে ব্রাহ্মণ্য সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে শুরু করে। তাদের সামাজিক পরিচয় গঠনে পুরাণকার ও শাস্ত্রকাররা নানান কাল্পনিক উৎপত্তিকথা তৈরি করেন, যাতে এই নতুন জাতিগুলিকে সমাজে স্থায়ী স্থান দেওয়া যায়।

ফলে গুপ্তযুগে সমাজ কাঠামোর মধ্যে বহু নতুন জাতির আবির্ভাব ঘটে।

অস্পৃশ্যতা চণ্ডালদের অবস্থান

সমাজে সবচেয়ে নিচুতলার মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল চণ্ডাল সম্প্রদায়
ফা-হিয়েন তাঁর বিবরণে উল্লেখ করেছেন—

১. চণ্ডালদের সংখ্যা তখন ছিল বিপুল।

২. তারা সাধারণত মাংস-বিক্রি ও অন্যান্য নিন্মপদ কাজ করত।

৩. সমাজে তাদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ; শহরে ঢুকলে উঁচু জাতির মানুষ তাদের স্পর্শ এড়িয়ে চলত।

৪. এদের নির্দিষ্ট বাসস্থান ছিল গ্রামের বাইরে।

এ থেকে বোঝা যায়, অস্পৃশ্যতার ধারণা তখন সমাজে গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল।

ব্রাহ্মণদের সর্বোচ্চ প্রভাব বর্ণভিত্তিক কর্তৃত্ব

গুপ্ত রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে ব্রাহ্মণদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।

রাজারা পুরোহিতদের নিষ্কর জমি দিতেন—যা ‘ব্রহ্মত্র’ নামে পরিচিত।

এই জমির প্রজাদের কাছ থেকে তারা কর আদায় করত এবং বিচার-শাস্তির অধিকারও তাদের হাতে ছিল।

ফলে ব্রাহ্মণ সমাজে এক বিশাল রাজনৈতিক আর্থিক শক্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এদিকে, বণিক বৈশ্য শ্রেণিও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে প্রচুর সম্পদ অর্জন করে সমাজে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

শূদ্র সমাজের অবস্থান

শূদ্রদের অবস্থা একটু বদলালেও পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল না।

তারা কৃষি, কুটিরশিল্প ও নানা কারিগরির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক অবস্থার একটু উন্নতি ঘটায়।

রামায়ণ, মহাভারত বা কিছু পুরাণ শ্রবণের অনুমতি পাওয়াতে তাদের ধর্মীয় অধিকার কিছুটা বিস্তৃত হয়।

তবুও বেদ অধ্যয়ন বা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অধিকার তাদের ছিল না।

অর্থাৎ, সামান্য উন্নতি হলেও শূদ্ররা এখনও নিম্নবর্ণের কঠোর নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ ছিল।

 

নারীর অবস্থান: স্বাধীনতার সংকোচন

গুপ্ত যুগের সমাজে নারী স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসে

নারীর উপনয়ন হত না, তাই বেদ অধ্যয়নের অধিকারও ছিল না।

নারীরা কোনও অর্থকরী পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল।

দরিদ্র নারীরা কিছু ক্ষেত্রে কৃষিকাজ, পশুপালন বা কুটিরশিল্পে যুক্ত থাকলেও উচ্চবর্ণের নারীরা প্রধানত গৃহবন্দী জীবন যাপন করত।

সমাজে প্রচলিত শাস্ত্র ও কাহিনিগুলিতে নারীকে ‘পাপিষ্ঠা’, ‘পুরুষের পতনের কারণ’ ইত্যাদি বলে চিত্রিত করা হত—ফলে নারীমর্যাদার অবনতি ত্বরান্বিত হয়।

‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’-এ শকুন্তলার প্রতি দুষ্যন্তের আচরণের ব্যাখ্যায় যে উক্তি আছে—

স্ত্রীর ওপরে স্বামীর সর্বাধিপত্য”—
এটাই প্রমাণ করে যে, নারীর ওপর পুরুষের কর্তৃত্ব তখন ছিল শাস্ত্রসম্মত।

নারীর সম্পত্তির অধিকারও সীমিত ছিল; স্ত্রীধন থাকলেও স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির ওপরই তার নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকত।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

সমাজ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা

গুপ্ত যুগের সমাজ ছিল পরিবর্তনশীল, বৈচিত্র্যময় এবং ক্ষমতা-সংকেন্দ্রিত—যেখানে

নতুন জাতির সৃষ্টি,

বহিরাগতদের অন্তর্ভুক্তি,

ধর্মীয় প্রভাব বৃদ্ধি,

নারীর অধিকার সংকোচন,

ব্রাহ্মণ ও বণিক শ্রেণির উত্থান

এই সব মিলিয়ে এক নতুন সামাজিক রূপ তৈরি হয়।

এই পরিবর্তনগুলির বহু অংশ আজও ভারতীয় সমাজে প্রতিফলিত।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

গুপ্তযুগের শিল্প, সংস্কৃতি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি

গুপ্তযুগকে ভারতীয় ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ নামে পরিচিত করা হয়—যে সময়ে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত ও সমাজজীবনের নানা দিক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সাম্রাজ্যের উপরের সামাজিক স্তরে বিপুল সম্পদ ও পৃষ্ঠপোষকতার জোরে শিল্প-সংস্কৃতি ফুলে-ফেঁপে ওঠে, যদিও নিচুতলার মানুষের অবস্থার সঙ্গে এর বিশাল তফাৎ ছিল।

বহুবিবাহ, সতীত্ব নারীর সামাজিক অবস্থান

গুপ্তসমাজে সম্পদ ও জমির মালিকানা প্রধানত উচ্চবর্ণের পুরুষদের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এই আর্থিক প্রাচুর্যের সঙ্গে সঙ্গে বহুবিবাহও সমাজে গ্রহণযোগ্য রীতি হয়ে ওঠে।

দেবতাদের (শিব ব্যতীত) প্রায় সকলেরই বহু স্ত্রী থাকার বর্ণনা পাওয়া যায়—যা তৎকালীন সমাজের পুরুষ-প্রাধান্যকে প্রতিফলিত করে।

কৃষ্ণের বহু পত্নীবরণ কিংবা পাণ্ডবদের বিবাহপ্রথাও সমাজের বহুবিবাহের ধারণাকে শাস্ত্রীয় অনুমোদন দেয়।

নারীর বহু বিবাহ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দ্রৌপদীর ক্ষেত্রে বহু বিবাহ ব্যক্তিচয়নের ফল নয়, সামাজিক পরিস্থিতির ফল।

প্রথম সতীদাহের উল্লেখও পাওয়া যায় খ্রিস্টাব্দ ৫৪০ সালে, যা গুপ্তযুগের সমাজে নারীর প্রতি চরম নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য বহন করে।

অন্যদিকে, এই যুগে এমন ভাস্কর্যও পাওয়া যায় যেখানে লক্ষ্মী নারায়ণের পদসেবা করছেন—যা নারীর কর্তব্য ও আনুগত্যকে সামাজিক আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছিল।

বিধবা বিবাহকে কিছু শাস্ত্রে অনুমতি দেওয়া হলেও
ইতিহাস, সাহিত্য বা মহাকাব্যে এর কোনও বাস্তব উদাহরণ নেই, যা প্রমাণ করে সমাজে নারীর স্বাধীনতা কতটা সীমাবদ্ধ ছিল।

গুপ্তযুগে বিজ্ঞান গণিতের সোনালি অগ্রগতি

গুপ্তযুগ শুধু শিল্পসাহিত্যের নয়, বৈজ্ঞানিক চিন্তা প্রযুক্তিবিদ্যারও অন্যতম উজ্জ্বল যুগ

. জ্যোতির্বিদ্যা

পাটলিপুত্রের মহাপণ্ডিত আর্যভটেরআর্যভটীয়গ্রন্থ ছিল যুগান্তকারী।

গ্রহ-নক্ষত্রের গতি, ত্রিকোণমিতি ও গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে আর্যভটের অবদান ভারতীয় বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

. গ্রিক প্রভাব

রোমক সিদ্ধান্ত’ নামক গ্রন্থে গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রভাব স্পষ্ট, যা ভারত-বিদেশ জ্ঞানবিনিময়ের প্রমাণ।

. দশমিক পদ্ধতি

এলাহাবাদের ৪৪৮ খ্রিস্টাব্দের একটি শিলালিপিতে দশমিক সংখ্যাপদ্ধতির ব্যবহার পাওয়া যায়—যা ভারতীয় গণিতের অসাধারণ অগ্রগতির চিহ্ন।

. ধাতুবিদ্যা রসায়ন

এই যুগের লোহা ও ব্রোঞ্জের মূর্তিগুলো এতটাই উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি যে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মরিচা ধরেনি

লোহার অক্সিডেশন থামানোর এমন কৌশল পাশ্চাত্য বিশ্ব আয়ত্ত করতে পেরেছিল অনেক পরে—মাত্র কয়েক শতক আগে।

গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক দিয়ে গুপ্তযুগ ছিল অগ্রগতির শক্ত ভিত।

শিল্প, সাহিত্য রাজপৃষ্ঠপোষকতা

গুপ্তযুগে রাজা ও ধনীদের ‍উদার পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্পচর্চা রাজসভার অনিবার্য অঙ্গ হয়ে ওঠে।

নবরত্নের উত্থান

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দরবারে ছিলেন বিখ্যাত নবরত্ন—যাঁদের মধ্যে ছিলেন:

মহাকবি কালিদাস

পণ্ডিত অমরসিংহ

আরও বহু শিল্পী, কবি, গায়ক ও জ্ঞানীজন

নাট্য সঙ্গীতচর্চা

কালিদাসের মালবিকাগ্নিমিত্র-এ রাজসভায় নৃত্যশিল্পীদের নাচের প্রতিযোগিতা সমাজে শিল্পকলার প্রসারের সাক্ষ্য দেয়।

বিক্রমোর্বশীয় নাটকের একটি পূর্ণ অঙ্কই গঠিত শুধু গান ও নাচ দিয়ে—যা সেই সময়ের সাংস্কৃতিক মান কত উচ্চপর্যায়ে ছিল, তা প্রমাণ করে।

রাজা সমুদ্রগুপ্তের সঙ্গীত দক্ষতা

তাঁর এক মুদ্রাতে সমুদ্রগুপ্তকে বীণা বাজাতে দেখা যায়—যা তৎকালীন সঙ্গীতচর্চার ব্যাপক প্রচলনকে তুলে ধরে।

সঙ্গীত, নাচ নারীর ভূমিকা

কালিদাসের রচনায় যক্ষবধূ বা অন্যান্য নায়িকাদের গান-বাজনার উল্লেখ সমাজের উচ্চস্তরে সংস্কৃতিচর্চার স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে।

কামশাস্ত্রেও নাগরিক জীবনের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে নৃত্য, সংগীত ও কাব্য—সবই ছিল শিক্ষিত সমাজের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ।

গুপ্তযুগের স্থাপত্য, ভাস্কর্য ভাষাসংস্কৃতির অনন্য বৈশিষ্ট্য

গুপ্ত যুগকে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ বলা হয়, এবং তার অন্যতম প্রধান কারণ—এই সময়ের অসাধারণ স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও ভাষার বিকাশ।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

স্থাপত্যশৈলীর উৎকর্ষ

গুপ্ত আমলে যে স্থাপত্যশৈলী গড়ে ওঠে তা শক্তপোক্ত নির্মাণ, সূক্ষ্ম জ্যামিতিক পরিমাপ এবং নান্দনিকতার জন্য বিশেষ পরিচিত।

দিল্লির বিখ্যাত লৌহস্তম্ভ – শুধু ধাতুর মানই নয়, এর মসৃণতা ও নির্মাণকৌশল আজও বিস্ময় জাগায়; হাজার বছরেও মরচে ধরেনি।

ভিটারগাঁও ইটের মন্দির (কানপুর) – পোড়ামাটির মন্দিরশৈলীর অনন্য উদাহরণ।

দেওগড়, ঝাঁসি গাজিপুরের স্থাপত্য – গুপ্ত শিল্পের পরিমিতি, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের পরিচয় বহন করে।

নালন্দা মহাবিহারের প্রাচীন স্থাপত্য – পঞ্চম শতাব্দীর বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র, যার পোড়া-ইটের নির্মাণ অতুলনীয়।

পাহাড়পুর, উদয়গিরি, বাদামির গুহামন্দির – রাজপ্রাসাদ ও মন্দিরনির্মাণে এই সময়ের নান্দনিক দক্ষতার উজ্জ্বল প্রমাণ।

এই যুগে সর্বতোভদ্র বা চতুর্দ্বার মন্দির নির্মাণের প্রচলনও দেখা যায়, যা ভারতীয় স্থাপত্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে।

ভাস্কর্যশিল্পের স্বর্ণযুগ

স্থাপত্যের তুলনায় গুপ্ত যুগের ভাস্কর্যশিল্প আরও পরিণত ও সূক্ষ্ম।

সুলতানগঞ্জের ব্রোঞ্জ বুদ্ধমূর্তি – দুই মিটার উচ্চতার এই মূর্তি গুপ্ত শিল্পের দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন।

বিষ্ণু, শিব, সূর্য, গণেশ, লক্ষ্মী, মহিষমর্দিনীসহ বহু দেবদেবীর মূর্তি – সুঠাম দেহ, ক্ষীণতনু গঠন ও মৃদু স্মিতহাস্যের জন্য বিখ্যাত।

বাসুদেব, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ, সাম্বের মূর্তি – যাঁরা বিষ্ণুর অংশ হলেও অবতার নন, তবু তাঁদের প্রচুর ভাস্কর্য দেখা যায়।

১. গুপ্ত ভাস্কর্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

২. মেদহীন, সুঠাম, সুসম্বদ্ধ দেহগঠন

৩. নিখুঁত অলংকার ও বস্ত্রবিন্যাস

৪. ধাতু ও পাথরের পরিমিত ব্যবহার

৫. ভাস্কর্যে গ্রিক, গান্ধার ও পারসিক প্রভাব থাকলেও শিল্পী তা নিজস্ব রীতিতে আত্মস্থ করেছেন

অজন্তার গুহাচিত্রে বর্ণের ব্যবহার, আলো-ছায়ার সমন্বয় ও চিত্ররীতির প্রভাবও এই সময়ে উচ্চমানে পৌঁছেছিল।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতি

গুপ্ত যুগে ভাষা ও সাহিত্য ছিল বৈচিত্র্যময়, তবু শৃঙ্খলাবদ্ধ।

এই সময়ে সংস্কৃত সাহিত্যচর্চার মূল ভাষা হয়ে ওঠে।

মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত কাব্য-গানে ব্যবহৃত হত।

শিক্ষিত নারীরা ও অশিক্ষিত পুরুষ সাধারণত শৌরসেনী প্রাকৃত বলতেন।

নিম্নতর শ্রেণিতে মাগধী প্রাকৃত, আর সবচেয়ে নিচু স্তরে শাকারী ভাষা প্রচলিত ছিল।

ভাষার প্রতি সচেতনতার পরিচয় পাই—

অভিধান

ব্যাকরণ

ছন্দরীতি

কোষগ্রন্থ রচনায়

এ সময়ে সংস্কৃত মিশ্রবৌদ্ধ সংস্কৃত—দু’ধরনের গ্রন্থ রচিত হয়। ধর্মীয় সাহিত্য, পুরাণ ও শাস্ত্র রচনায় সংস্কৃতই প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

গ্রিকভারতীয় শিল্পের মিলন

গান্ধার শিল্পরীতির প্রভাবে গুপ্ত শিল্পে—

মুখাবয়বে নরম রেখা

ক্ষীণ হাসি

পোশাকে বাস্তবধর্মিতা

গ্রিক উপকথার চিত্ররীতির ছাপ

এসব দৃশ্যমান, কিন্তু ভারতীয় শিল্পীরা সব প্রভাবকে মিলিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব এক শৈলী গড়ে তোলেন।

গুপ্ত যুগের সাহিত্য, নাট্যধারা সমাজবাস্তবতা

গুপ্ত যুগে কাব্য ও নাট্যসাহিত্য উচ্চমানের হলেও, এই সাহিত্যধারা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের জীবন থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। নায়ক-নায়িকার চিত্রণ, অলংকারবহুল ভাষা, জটিল রচনাশৈলী—সব মিলিয়ে সাহিত্য ক্রমেই রাজদরবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠছিল।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

নাটক কাব্যের চরিত্রধারা

এই সময়ের অধিকাংশ নাটকে—

নায়ক: সাধারণত রাজা, মহারথি, ধনী বণিক বা উচ্চবর্গের নাগরিক।

নায়িকা: প্রধানত রাজকন্যা বা উচ্চবংশীয় নারী।

বিদূষক/বিট: সাধারণত ব্রাহ্মণ সঙ্গী, যিনি হাস্যরস সৃষ্টি করতেন।

যদিও কিছু কিছু ভাস্কর্য ও নাট্যে সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র দেখা যায়, তবুও সাহিত্য মূলত রাজকীয় ও এলিট সমাজের অভিজ্ঞতার ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল।

 

সাহিত্যে জটিল অলংকারের বৃদ্ধি

গুপ্ত যুগের শেষ দিক থেকে সংস্কৃত সাহিত্যে অত্যধিক অলংকারপ্রয়োগের প্রবণতা বাড়ে।

অপ্রচলিত শব্দ

শ্লেষ, যমক, ধ্বনি

জটিল বাক্যবিন্যাস

এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে পণ্ডিতদের আনন্দের ক্ষেত্র, সাধারণ পাঠকের কাছে তা ধীরে ধীরে দুর্বোধ্য হতে থাকে।

ভট্টির রাবণবধ কাব্যে তিনি নিজেই ঘোষণা করেন—

“এই কাব্য ভাষা ছাড়া বোঝা যাবে না; পণ্ডিতদের উৎসবের জন্য এটি রচিত।”

অর্থাৎ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অলংকার ও ব্যাকরণের জটিলতা ব্যবহার করেন যাতে শিক্ষিত সাধারণ পাঠকও সহজে তা বুঝতে না পারেন। এই প্রবণতার সূত্রপাত গুপ্ত যুগের শেষ পর্যায়ে।

 

সাধারণ মানুষের সাহিত্য হারিয়ে যাওয়া

সংস্কৃত ভাষায় রচিত সাধারণ মানুষের গল্প, লোকায়ত নাটক, এবং নিম্নবর্গের জীবনের চিত্র—এসবই পরবর্তী যুগে হারিয়ে যায়। কেন?

১. রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না— তাই এগুলির সংরক্ষণ হয়নি।

২. লেখার প্রচলন কম ছিল— লোকায়ত রচনা মুখে মুখেই প্রচলিত ছিল, লিখিত রূপে টিকে থাকতে পারেনি।

৩. ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের গ্রন্থসংরক্ষণ প্রক্রিয়া ছিল এলিটসংস্কৃতিনির্ভর, ফলে সাধারণ মানুষের রচিত/উপভোগ্য নাট্যগুলি সংরক্ষিত হয়নি।

নাট্যশাস্ত্রে বহু লোকনাট্যের উল্লেখ থাকলেও আজ সেগুলির কোনোটিই আমাদের হাতে নেই।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

কামসূত্রে ধনী নগরিক জীবনের বর্ণনা

খ্রিস্টীয় দ্বিতীয়/তৃতীয় শতকের বাত্স্যায়নের কামসূত্র থেকে জানা যায়—উচ্চবিত্ত পুরুষ, অর্থাৎ ‘নাগরিক’, কীভাবে বিলাসী জীবনযাপন করতেন।

তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ছিল—

কবিতা ও নাটক রচনা ও আলোচনা

ধাঁধা, প্রহেলিকা, শিল্পচর্চা

কুঞ্জবন, নদীতীর, অরণ্যে বিনোদন

নৌকাবিহার

গণিকা, বন্ধু ও পারিষদদের নিয়ে আনন্দোৎসব

এই বিলাসী জীবনধারাকে ঘিরে বহু দরিদ্র মানুষ নিযুক্ত থাকতেন সেবার কাজে।

কালিদাস, শূদ্রক প্রমুখ নাট্যকারের নায়ক চরিত্রেও এই শহুরে বিলাসী নাগরিকের আদল স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

কেন দুঃখান্ত কাহিনি ছিল না সাহিত্যে

গুপ্ত যুগের সাহিত্য এক ধরনের আদর্শবাদী রীতিনীতি অনুসরণ করতে থাকে—

দুঃখান্ত পরিণতি নাটকে ব্যবহার করা হত না।

কারণ সাহিত্য ছিল রাজদরবারের বিনোদনের জন্য; সাধারণ মানুষের দুঃখকে তারা গ্রহণ করতেন না।

ফলে সাহিত্য বাস্তব জীবন থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই কারণেই গুপ্ত যুগের সাহিত্য ও নাট্যকলায় আনন্দ, প্রেম, বীরত্ব, শৃঙ্গার—এই রসবোধই প্রাধান্য পায়।

গুপ্ত যুগের ধর্মব্যবস্থা: পুনরুজ্জীবন, নতুন মতবাদ সমাজে এর প্রভাব

গুপ্ত যুগে ধর্মজগতে এক গভীর পরিবর্তন ঘটে। এই সময়ে ব্রাহ্মণ্যধর্ম নতুনভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যজ্ঞযজ্ঞাদি আবার রীতিমতো জাঁকজমকের সঙ্গে প্রচলিত হয় এবং পুরাণকেন্দ্রিক দেবউপাসনা সর্বত্র বিস্তার লাভ করে। এ সময়ের ধর্মীয় নানা প্রবণতা শুধু আধ্যাত্মিক জগতে নয়, সমাজকাঠামো, রাজনীতি ও সংস্কৃতিকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

🔶 ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পুনরুত্থান

বৌদ্ধ, জৈন ও আজীবিক ধর্মের প্রভাবে বৈদিক ধর্ম যে প্রভাব হারিয়েছিল, গুপ্ত যুগে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ধনসম্পদের বিপুল সঞ্চয় রাজা ও ধনী গৃহস্থদের যজ্ঞ আয়োজনের ক্ষমতা বাড়ায়।

আঞ্চলিক দেবতা, গ্রামীণ পূজা ও প্রাগার্য উপাসনা এই সময়ে আবার গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

পুরাণ রচনা ও দেবতা কেন্দ্রিক কাহিনির বিস্তারের ফলে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের জনপ্রিয়তাও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বৃহৎ সাম্রাজ্যে ধর্মীয় একতা রক্ষার জন্য গুপ্ত শাসকরা নানা অঞ্চলের দেবতাকে বৃহত্তর ব্রাহ্মণ্য গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করেন।

🔶 জন্মান্তরবাদ অবতারবাদের বিকাশ

জন্মান্তর ধারণা যদিও খ্রিস্টপূর্ব শতাব্দীগুলিতেই দেখা যায়, গুপ্ত যুগে তা আরও সুসংহত রূপ পায়।

জাতককাহিনির প্রভাব

জাতকে বুদ্ধের একাধিক জীবনের গল্প যেমন প্রচলিত ছিল, তেমনি ব্রাহ্মণ্য ধারায়ও বহু দেবতার বারবার জন্মগ্রহণের কাহিনি রচিত হতে থাকে।

কৃষ্ণের চার অভিব্যক্তি: চতুর্ব্যহ

বলরাম

প্রদ্যুম্ন

অনিরুদ্ধ

সাম্ব

এরা দেবতার অবতার না হলেও কৃষ্ণশক্তির বিভিন্ন প্রকাশ হিসেবে পূজিত হতেন।

বিষ্ণুর দশ অবতার

গুপ্ত যুগেই পুরাণে বিষ্ণুর দশ (কখনও তেইশ পর্যন্ত) অবতার কাহিনি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এই অবতারকাহিনি মূলত বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন দেবতা-পূজাকে একত্রিত করার বড় ভূমিকা পালন করে।

🔶 ধর্মে অলৌকিক কাহিনির প্রাচুর্য

গুপ্ত যুগের ধর্মীয় সাহিত্য—পুরাণ, উপাখ্যান, মহাকাব্য—সবকিছুতেই অলৌকিক ঘটনা, দেবতার আবির্ভাব, অভিশাপ-বিচার ইত্যাদির আধিক্য দেখা যায়।

এর প্রধান কারণ—

১. সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা

২. সমাজে শাস্ত্রকার ও পুরোহিতদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা

৩. দরিদ্র বা সমাজের নিচুতলার মানুষকে ‘পূর্বজন্মের পাপ’ তত্ত্ব দিয়ে বাধ্য করা

ধর্মীয় গল্পে দেবতা মানুষের মতো অভিশাপে মর্ত্যে জন্ম নেন—এমন কাহিনি মানুষের মনে শাপ-বরের ভয় ও ভক্তি দুটোই বাড়িয়ে দেয়।

🔶 ব্রাহ্মণ্য দর্শনের বিস্তার

গুপ্ত যুগে ছয়টি প্রধান ব্রাহ্মণ্য দর্শন আরও বিস্তৃত রূপ পায়—

মীমাংসা

ন্যায়

বৈশেষিক

সাংখ্য

যোগ

বেদান্ত

এসব দর্শনের ভাষ্য ও টীকা রচনার মাধ্যমে স্বাধীন দার্শনিক চিন্তারও বিকাশ ঘটে, যদিও এগুলির বোধ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

🔶 ধর্ম সমাজব্যবস্থা

ধর্মীয় পরিবর্তন সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে।

সমাজকাঠামোর স্থিরীকরণ

ব্রাহ্মণের মর্যাদা সর্বোচ্চে প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাজা দেবতার প্রতিনিধি বলে বিবেচিত হন।

শূদ্র ও নিম্নবর্ণের মানুষের কাজ ছিল উচ্চবর্ণের সেবা করা।

নারীর স্থান সমাজে আরও নিম্নস্তরে নেমে যায়; তাদের ভূমিকা নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে স্বামী, সন্তান ও পরিবারসেবায়।

দেবতা পুরাণের বিস্তার

আঞ্চলিক দেবতা ও গ্রামীণ দেবী-দেবতার পূজা ধীরে ধীরে বৃহৎ ব্রাহ্মণ্য কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়।
পুরাণকাররা এদের সঙ্গে—

প্রাচীন দেবতা

পৌরাণিক বীর

রাজবংশের কীর্তি

—এগুলোকে যুক্ত করে নতুন একটি ধর্মীয় কাঠামো গড়ে তোলেন, যা পরবর্তীতে হিন্দুধর্ম নামে পরিচিত হয়।

🔶 ধর্মজগতের বহুমাত্রিকতা

গুপ্ত যুগে বিভিন্ন ধর্মীয় ধারা পাশাপাশি টিকে ছিল—

যজ্ঞ ও বৈদিক পদ্ধতি

পুরাণভিত্তিক দেবউপাসনা

তান্ত্রিক রীতি

ঝাড়ফুঁক, কবচ-তাবিজ

যোগ ও দর্শন

বৌদ্ধ ও জৈন সন্ন্যাসীদের মতবাদ

সব মিলিয়ে ধর্ম ছিল বহুস্তর, বহু মত ও বহুত্ববাদী।

 

🔶 শিল্পসংস্কৃতিতে ধর্মের প্রভাব

অর্থনৈতিক প্রাচুর্যের কারণে—

ভাস্কর্য

স্থাপত্য

চিত্রকলা

সাহিত্য

সংগীত

বিজ্ঞান, জ্যোতিষ, গণিত

—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত উন্নতি হয়। তবে এগুলির পৃষ্ঠপোষকতা শুধুই সাম্রাজ্যের উচ্চবিত্ত ও ধনী শ্রেণি করত।
সাধারণ মানুষের লোকায়ত শিল্প সাহিত্য প্রায়ই ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়নি।

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

গুপ্ত যুগে নিয়তিবাদ: ধর্মচিন্তা, সামাজিক কাঠামো এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব

গুপ্ত যুগে ভারতীয় ধর্মচর্চায় যে দার্শনিক ধারণাটি সবচেয়ে প্রবল ভাবে মাথা তোলে, তা হলো নিয়তিবাদ। এই মত অনুযায়ী মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা—সবই এক অজ্ঞাত, অদৃশ্য শক্তির দ্বারা নির্ধারিত। এ শক্তির পরিচয় জানা বা তাকে প্রতিহত করা মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে জীবনের সমস্ত ঘটনাকে ‘নিয়তি’ বা ভাগ্যের উপর ন্যস্ত করাই ছিল প্রধান ধর্মভাবনা।

নিয়তিবাদ জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কারণ

গুপ্ত যুগের পুরোহিত ও শাস্ত্রকারেরা ধর্মশাস্ত্রে এমনভাবে নির্দেশ দিতেন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন না করে সেই নিয়মই মেনে চলে। তাদের মতে—

শাস্ত্রের বিধান অন্ধভাবে মানলে

পূজা-অর্চনা, দান-দক্ষিণা করলে

জপ, ব্রত, তপস্যা করলে

মানুষ ইহলোকে শান্তি এবং পরলোকে মোক্ষ বা পুণ্যফল পেতে পারে। ফলে সমাজের ধনী-উচ্চবর্ণের ক্ষমতা অটুট থাকত এবং সাধারণ মানুষের জীবনে অসহায়তার বোধ আরও বাড়ত।

মহাকাব্য, পুরাণ নিয়তির ভূমিকা

গুপ্ত যুগে লেখা মহাকাব্যের পরবর্তী সংযোজন ও বহু পুরাণে বারবার নিয়তির শক্তিকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। শাপ-বর, কর্মফল, তীর্থ-মাহাত্ম্য, দান-পুণ্য, ধ্যান-জপ—এসবই মানুষের মনে এমনভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে জীবনের সব কিছুই পূর্বজন্মের কাজ ও নিয়তির হাতে নির্ধারিত।

এভাবেই ‘নিয়তি’ হয়ে ওঠে এক ধরনের অদৃশ্য দেবী, যিনি কারো পূজায় সন্তুষ্ট হন না এবং যার হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার কোনও উপায় নেই।

জন্মান্তরবাদ থেকে নিয়তিবাদের পথে ধর্মের বিবর্তন

গুপ্ত যুগের আগ পর্যন্ত ভারতীয় ধর্মচিন্তার তিনটি প্রধান ধারা ছিল—

১. বৈদিক যুগের যজ্ঞকেন্দ্রিক ধর্ম

২. জ্ঞানভিত্তিক উপনিষদ, বৌদ্ধ জৈন দর্শন

৩. জন্মান্তরবাদ কর্মফলনির্ভর মতবাদ

এর পরে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় নতুন এক শক্তিশালী মত—নিয়তিবাদ
জন্মান্তরবাদ বলল: “এই জন্মে যা হচ্ছে, তা পূর্বজন্মের ফল।”
কর্মবাদ বলল: “কর্ম করলে ফল পাবেই।”
কিন্তু নিয়তিবাদ বলল: “না, সবই পূর্বনির্ধারিত। মানুষের কিছু করার নেই।”

এই সাংঘর্ষিক ধারণাগুলো বিরোধী হলেও, গুপ্ত যুগের ধর্মচিন্তায় তারা পাশাপাশি চলতে থাকে—যাকে বলা যায় তত্ত্বের জগাখিচুড়ি। রীতিমতো যুক্তিহীন হলেও এগুলিই পরের দেড় হাজার বছর ধরে ভারতীয় ধর্মবোধের প্রধান সুর হয়ে ওঠে।

সামাজিক কাঠামোয় নিয়তিবাদের প্রভাব

নিয়তিবাদের বিস্তার উচ্চবর্ণ ও ক্ষমতাবানদের স্বার্থকে আরও শক্ত করেছিল। কারণ—

নিম্নবর্ণের মানুষকে বোঝানো হত তাদের দুঃখ-দুর্দশা পূর্বজন্মের পাপফল

ফলে সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মনোভাব কমে যেত।

নারীর অবস্থান আরও নিচে নেমে যেত, কারণ ‘নিয়তি’ বলে মানিয়ে নেওয়া শেখানো হত।

জনগণকে বিভ্রান্ত রাখতে ধর্মের নামে জপ-তপ, ব্রত, মানত, তীর্থযাত্রা—এই সবের গুরুত্ব বাড়ানো হয়।

ফলে সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায় এবং সমাজে ব্রাহ্মণ-পুরোহিতদের ক্ষমতা সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছায়।

হিন্দুধর্মের বর্তমান রূপের দাঁড়িয়ে ওঠা

গুপ্ত যুগে ব্রাহ্মণ্যধর্ম যে আকার পেল, তার মূল কাঠামো আজও অনেকটাই অপরিবর্তিত। শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর, গাণপত্য—বিভিন্ন সম্প্রদায় একসূত্রে বাঁধা পড়ে। নানা আঞ্চলিক দেবতা পুরাণে স্থান পায়, কল্পকাহিনি জুড়ে তাদের পরিণত করা হয় দেবতার আত্মীয় বা অবতার হিসেবে।

এই পর্বেই হিন্দুধর্ম বহু রূপের সংমিশ্রণে এক বৃহৎ ধারায় পরিণত হয়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে—

জন্মান্তরবাদ

কর্মফল

অভিশাপ-বর

তীর্থ-মাহাত্ম্য

যজ্ঞ-পূজা

এবং সর্বোপরি নিয়তি

Gupta Jug in Details for any Compititive Exam

উপসংহার

গুপ্ত যুগে জন্ম নেওয়া নিয়তিবাদ শুধু ধর্ম নয়, সমাজ এবং মানুষের মানসিকতাকেও গভীরভাবে বদলে দেয়। মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার চেয়ে ভাগ্যের প্রতি নির্ভরতার ধারণাই বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে ধর্মীয় কাঠামো যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনই সমাজে সাধারণ মানুষের অসহায়তা বাড়ে। আর এই সামগ্রিক ধর্ম-চিন্তার রূপই ক্রমে গড়ে তোলে বর্তমান হিন্দুধর্মের মৌল কাঠামো।

Read More..

  1. West Bengal Police WBP Constable syllabus in Bengali 2025
  2. West Bengal Police (wbp) WB SI syllabus in Bengali 2025
  3. WBCS SYLLABUS and EXAM PATTERN 2025
  4. Rail Group D Syllabus 2025 with PDF ।। রেলের গ্রুপ ডি সিলেবাস
  5. 50 Important Geography Questions And Answars ।। ভূগোলের কিছু গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর 2025
  6. 50 Geography Important GK for Competitive Exam in Bengali PDF Part 2
  7. 50 History Important GK | ইতিহাসের গুরুত্বপুর্ণ GK
  8. Important Geography GK in Bengali Part 3 with PDF | ভূগোলের ৫০ টি গুরুত্বপুর্ণ জিকে

youtube channel 

Leave a Comment